Published On: Thu, Oct 8th, 2015

বরগুনায় গণধর্ষণ মামলা করতে এসে ফেঁসে গেলেন গৃহবধূ

ডেইলি খবর, বরগুনা: বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর বাজারের শিপন ঢালীর স্ত্রী এক সন্তানের জননী শাহিনুর বেগমকে ফুসলিয়ে একটি সাজানো গণধর্ষণ মামলা করাতে এসে ফেঁসে গেছেন প্রতারক আম্বিয়া খাতুন।  বুধবার রাতে শত্রুকে ফাঁসাতে এসে নিজেই ফেঁসে যাওয়ার এ ঘটনাটি ঘটে । পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার গাজীপুর বন্দরের আবুল হোসেনের ঘরে ভাড়া থাকে মোটরসাইকেল চালক শিপন ঢালী। আবুল হোসেনের সাথে বিরোধ ছিল ওই এলাকার হিরণ গাজী (২০), রুবেল গাজী (২১) ও বাদশা মিয়ার (২৫)।   আবুল হোসেনের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন ওই শত্রুদের ফাঁসাতে ভাড়াটিয়া শিপনের স্ত্রী শাহিনূরকে দিয়ে পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক মঙ্গলবার রাতে হিরণ, রুবেল ও বাদশা ভাড়াটিয়া শিপনের ঘরে জোড়পূর্বক প্রবেশ করে তার স্ত্রী শাহিনূরকে গণধর্ষণের নাটক সাজায়। এ সময় শাহিনূরের স্বামী শিপন বাড়িতে ছিল না। গণধর্ষণের সাজানো মামলা করার জন্য আবুলের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন ওই গৃহবধূকে নিয়ে আমতলী থানায় আসে। এ ঘটনা শুনে আমতলী থানার ওসি ও বরগুনা সদর সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার কাজী কাইয়ূম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বুধবার রাতে শাহিনূর বেগম সাংবাদিকদের জানান আম্বিয়া খাতুন তার শত্রুদের ঘায়েল করার জন্য আমাকে দিয়ে মিথ্যা গণধর্ষণের নাটক সাজিয়ে মামলা করাতে আমাকে আমতলী থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু কি জন্য এমন মিথ্যা নাটকটি করলেন এমন প্রশ্নের সে কোন জবাব দিতে পারেনি। অভিযুক্ত আম্বিয়া খাতুন বলেন শাহিনূর বেগমকে মঙ্গলবার রাতে গণধর্ষণ করেছে। তার কথা অনুসারে মামলা দায়ের করতে থানায় আসি। শাহিনুর বেগম থানায় এসে উল্টো কথা বলায় আমি ( আম্বিয়া খাতুন) ফেঁসে গেছি। আমতলী থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় বলেন, গৃহবধূকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায় সাজানো গণধর্ষণের ঘটনা ফাঁস করে দেয়। ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি আম্বিয়া খাতুন বিভিন্ন মিডিয়ার লোকজনদের কাছে গণধর্ষণের তথ্য সরবরাহ করে। সংবাদ কর্মীরা তথ্য নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গণধর্ষণের খবর পেয়ে বরগুনা সদর সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার কাজী আব্দুল কাইয়ূম রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি আরও জানান শাহিনূর বেগমকে তার শ্বশুর ইউনুস ঢালির জিম্বায় ছেড়ে দিয়েছি। আম্বিয়া খাতুনের প্রতারণার জন্য থানায় সাধারণ ডাইরী করে আদালতে পাঠিয়েছি। আর আম্বিয়া খাতুন ও তার স্বামী আবুল হোসেনকে  স্থানীয় ইউপি সদস্য নেয়ামত উল্লাহর দায়েরকৃত হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেফতার  করে কোর্টে পাঠানো হয়েছে।  স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নেয়ামত উল্লাহ জানান আবুল গাজী ও তার স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন গাজীপুর বাজারে গাজা সহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা  করেন । স্থানীয় সূত্রে জানা যায়  আবুল গাজীর মাদকের ব্যবসায়  বাধা দিতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিম দুয়ারী , ইউপি সদস্য নেয়ামত উল্লাহসহ বাজারের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকিদিয়ে বেড়াতেন।

Share Button

About the Author

-