Published On: Wed, Sep 9th, 2015

এই গরমে ঢিলেঢালা আর লম্বা টপস

এই গরমে ঢিলেঢালা আর লম্বা টপস
এক সময় আঁটসাঁট টপসেরই চল ছিল। এক বছর ধরে ঢিলেঢালা টপসও চলছে। এবার লং কামিজের বাতাস লাগায় ঢিলেঢালা টপসটা লম্বাও হয়ে গেছে। আগে এটা ছিল হাঁটুর ওপরে। ফ্যাশন ডিজাইনার এমদাদ হক বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম সব সময় পোশাকের ধাঁচটা বদলে নিয়ে পরতে চায়। মূলত গত বছর আফগান, পাকিস্তানি পোশাক কাফতান কিছুটা শর্ট হয়ে ঢিলেঢালা টপস হয়ে এসেছিল। পোশাকে কাফতান টাইপ লুকটাও ছিল। এবার আর শর্ট নয়, লম্বাই রাখা হয়েছে।’ বিবিআনার ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, ‘ঢিলেঢালা আর লম্বা এই টপসগুলো যেকোনো ফিগারেই মানায়। আর গরমই এ ধরনের টপস পরার উপযুক্ত সময়। তাই টিনএজাররা তো বটেই, চাকরিজীবীরাও পরছেন।’
রকমসকম
বিভিন্ন ধরনের হয় এই টপসগুলো। কোনোটা কলিদার, কোনোটা পাঞ্জাবি স্টাইলের, আবার কোনোটা ফ্রিল অর্থাৎ বুকে ও কোমরে কুঁচি। কাফতান লুকের টপসগুলো বেশ ঢিলেঢালা, দুই পাশে ঝুল, সামনে ওভাল শেপ। বড় এক টুকরো কাপড়ে আলাদা করে হাতা না কেটে হাতা থেকে নিচের অংশ পর্যন্ত টানা সেলাই করা থাকে। সঙ্গে থাকে চওড়া কাপড়ের লেস। হাতার কাটিংই কাফতান টপসে ভিন্নতা এনে দিয়েছে। সুতি, সিল্ক, তাঁত, খাদি ইত্যাদি কাপড়ে তৈরি হচ্ছে এসব টপস। তবে তাঁত ও সুতির টপসের চাহিদা বেশি। গোলাপি, বাদামি, লাল, সবুজ, খয়েরি, হলুদ, বেগুনিসহ বিভিন্ন রঙের টপস আছে।
কাটিং ও ডিজাইন
সাধারণ টপসের চেয়ে লেংথটা অনেক বেশি, শর্ট কামিজের চেয়ে বড়। ঢিলেঢালা হলেও কাঁধ আর বুকের মাপ কিন্তু ঠিকই থাকবে। হাতার ক্ষেত্রে ঘটিহাতাই প্রাধান্য পাচ্ছে। ঢিলা স্ট্রেইট, বেল ­িভ হাতা অর্থাৎ ওপরে চাপা, নিচের দিকটা ঢোলা, শেপ হাতা, থ্রি-কোয়ার্টার হাতাও থাকছে। টপসের নিচের অংশেও বেশ বৈচিত্র্য দেখা যায়। সামনে কিছুটা ওভাল হয়ে দুই পাশে ঝুল অথবা চারপাশে ত্রিকোণাকার, ঢেউখেলানো। পাশাপাশি রাউন্ড শেপ তো থাকছেই। বাটিক, টাইডাই, অ্যাপলিক, এমব্রয়ডারি, স্ক্রিনপ্রিন্ট ও হাতের কাজ টপসগুলোর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। আবার কোনোটিতে গ্লাস, স্টোন ও সিকোয়েন্সের কাজ করা হয়েছে। কাপড়ে বিভিন্ন মোটিফের কাজও হচ্ছে। কাঠ, প্লাস্টিক, স্টোনসহ বিভিন্ন উপাদানে তৈরি হয়েছে বোতাম।
সালোয়ার, প্যান্ট, না লেগিংস
ফ্যাশন ডিজাইনার তানিয়া কাউসারী দিশা বলেন, ‘যেহেতু পোশাকটা ঢিলা আর লম্বা, তাই এর সঙ্গে একটু চাপা টাইপের জিন্স প্যান্ট বা থ্রি-কোয়ার্টার ভালো লাগে। তবে বেশি ভালো মানায় লেগিংসের সঙ্গে। একরঙা লেগিংস সবার পছন্দ। বাজারে এখন নানা রঙের লেগিংস পাওয়া যায়, যা এই টপসগুলোর সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায়। কেউ চাইলে ঢোলা সালোয়ারও পরতে পারেন।’
মিলিয়ে পরুন
’ঢিলেঢালা পোশাকের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন লুকের গয়না ভালো মানায়।’ বললেন লিপি খন্দকার। আরো যোগ করেন তিনি, ‘কানে বড় রিং টাইপের দুল বা লম্বা ঝোলানো দুল, হাতে চিকন-মোটা কয়েক ধরনের চুড়ি। কাঠ, মেটাল, প্লাস্টিকথসব ধরনের চুড়িই মানায় এই পোশাকে। গলায় মালা পরতে চাইলে দুই বা তিন লহরের লম্বা ঝোলানো মালা ভালো দেখাবে। তবে সে ক্ষেত্রে কানে কিছু না পরাই ভালো। আর এই পোশাকের সঙ্গে সেমি হিল বা হিল জুতা বেশ মানায়। চাইলে ­িপারও ব্যবহার করতে পারেন।’ তবে মোদ্দা কথা, পোশাকের ধরন, স্থান ও সময় বুঝে গয়না নির্বাচন করা উচিত।
হেয়ারোবি ব্রাইডালের বিউটি এপার্ট তানজিমা শারমিন মিউনির মতে, এ ধরনের টপসের সঙ্গে খোলা চুল মানানসই। যাঁদের চুল ছোট তাঁরা চুল ছেড়ে রাখতে পারেন, তবে লম্বা চুল হলে পনিটেল, ফ্রেঞ্চ বেণি বা কাঁটা দিয়ে আটকে রাখতে পারেন। টপস যদি হালকা রঙের হয়, তাহলে চোখে একটু গাঢ় শেড দিলে ভালো লাগবে। রাতের বেলায় সাজের ক্ষেত্রে গ্লিটার শ্যাডো দিলে ভালো দেখাবে। আর ভারী মেকআপ না দিয়ে মুখে দাগ থাকলে কনসিলার দিয়ে দাগ ঢেকে দিতে হবে। এরপর হালকা ফাউন্ডেশন দিয়ে তার ওপর ফেস পাউডার দিতে হবে। দিনের সাজ যদি হয়, অফিস বা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা অন্য কোনো কাজে যাওয়ার জন্য, তাহলে চোখে গ্লিটার লাইনার দিলে ভালো লাগবে। লিপস্টিকটা ম্যাট দিতে হবে।
কোথায় পাবেন
ফ্যাশন হাউস আড়ং, কে-ক্র্যাফট, বিবিআনা, দেশাল, বাংলার মেলা, অন্যমেলা, অঞ্জন’স, যাত্রা, সাদা কালো, রঙ, ইনফিনিটি, ইয়েলো, স্মার্টে, ফ্রিল্যান্ড, ওটু, এট্যাসিসহ প্রায় সব ফ্যাশন হাউসেই পাবেন এ ধরনের টপস। এ ছাড়া রাজধানীর নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, মাসকট প্লাজা, নর্থ টাওয়ার, টুইন টাওয়ারসহ বিভিন্ন মার্কেটেও মিলবে।
দরদাম
কাপড়ের ধরন, ডিজাইন ও গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে দাম। সুতির টপস পাবেন ৫৫০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। অ্যান্ডি কটন ৬০০ থেকে ২৫০০ টাকা, সিল্কের টপসের দাম ৮৫০ থেকে ২৬০০ টাকা পর্যন্ত।

Share Button

About the Author

-