Published On: Sun, Sep 6th, 2015

ধূমপানে দীর্ঘদিনের কাশি

ধূমপানে দীর্ঘদিনের কাশি
হেলথ ডেস্ক : ব্রংকাইটিস হল শ্বাসনালীর প্রদাহ, যার ফলে শ্বাসনালীর ভেতরে দেয়াল লাল হয় এবং ফুলে যায়। শ্বাসনালীর ভেতরে বাতাস চলাচলের জায়গা সরু হয়ে যায় এবং প্রচুর শ্লেষ্মা তৈরি হয়। শ্বাসনালীর ভেতরে অক্সিজেনসহ বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং প্রচুর শ্লেষ্মা তৈরির ফলে শ্বাসনালীর মধ্যে সংক্রমণ হয়। এর ফলে কাশি ও শ্বাস কষ্ট হয়।
ব্রংকাইটিস দুই প্রকার : অপঁঃব বা ক্ষণস্থায়ী, ঈযৎড়হরপ বা দীর্ঘস্থায়ী।
ক্রনিক (দীর্ঘস্থায়ী) ব্রংকাইটিস কি : একনাগাড়ে ৩ মাসের বেশি সময় ধরে শ্লেষ্মাযুক্ত কাশি কমপক্ষে পরপর ২ বছরের বেশি সময় ধরে থাকলে, তখন এ অবস্থাকে ক্রনিক ব্রংকাইটিস বলা হয়।
কোন বয়সে লোকদের মধ্যে ক্রনিক ব্রংকাইটিস হয়?
সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ বয়সের পর এই রোগ বেশি হয়। কিন্তু অল্প বয়সেও এই রোগ হতে পারে যদি জন্মগত কোন কারণ থাকে। উদাহরণ : আলফা ওয়ান এন্টি ট্রিপসিনের ঘাটতির কারণে।
পুরুষ না মহিলাদের মধ্যে এই রোগ বেশি হয় : সাধারণত পুরুষেরা এই রোগে বেশি ভোগেন।
কী কারণে এই রোগ হয় : সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত অজানা। তবে এই রোগ হওয়ার জন্য কতগুলো নিয়ন্ত্রক দায়ী। সেগুলো হল *   -ধূমপান : ক্রনিক ব্রংকাইটিসের প্রধান কারণ ধূমপান। সাধারণত শতকরা ৯৫ ভাগ ক্রনিক ব্রংকাইটিস ধূমপানের কারণে হয়। এই ধূমপান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উভয় প্রকারই হতে পারে। ধূমপানের পরিমাণের ওপর এই রোগ হওয়া নির্ভর করে।-পরিবেশ দূষণ : যথা- চুলার ধোঁয়া, গাড়ির ধোঁয়া, গোবরের ধোঁয়া, রাস্তার ধুলাবালি ইত্যাদি।-বায়ুদূষণ : আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক।-বারবার ফুসফুসে সংক্রমণ (ওহভবপঃরড়হ).-স্বল্প ও মধ্য আয়ের পরিবার : ঘনবসতিপূর্ণ, কাঁচাঘর এবং চড়ড়ৎ ঠবহঃরষধঃরড়হ.-পেশাগত কারণ : বিভিন্ন কলকারখানায় কাজ করে এমন ব্যক্তি যেমন- সোয়েটার, পাট ও পাটজাত পণ্য, তুলার কারখানা ইত্যাদি।
জন্মগত কারণ : ক. আলফা ওয়ান অ্যান্টি ট্রিপসিনের ঘাটতি। খ. শ্বাসনালীর অতি সংবেদনশীলতা।
রোগের পরিসংখ্যান কেমন : যেখানে যত বেশি ব্যক্তি ধূমপান করে সেখানে এই রোগ তত বেশি হয়। এছাড়া স্বল্প ও মধ্য আয়ের দেশে এই রোগের প্রবণতা বেশি। সাম্প্র্রতিক হিসাবে দেখা যায়, পৃথিবীতে প্রায় ৮ কোটি লোক এই রোগে ভুগছেন। ২০০৫ সালের পরিসংখ্যান মোতাবেক এই রোগে মৃতের সংখ্যা ৩০ লাখেরও বেশি এবং ২০২০ সাল নাগাদ এই রোগে মৃত্যু তৃতীয় প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হয়। ১৯৯৯ সালে এই রোগে মৃত্যুর ষষ্ঠ কারণ ছিল।
কিভাবে রোগ নির্ণয় করা যায় : রোগের ইতিহাস, রোগের উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা যায়। বয়স ৪০ বছরের বেশি, ধূমপান যেহেতু প্রধান নিয়ামক (ঋধপঃড়ৎ) সেহেতু ধূমপান কত বছর বয়স থেকে শুরু হয়েছে তা দেখতে হবে। প্রতিদিন কতটা সিগারেট খায়, এখনও সিগারেট খায় কিনা বন্ধ করে দিয়েছে। পরোক্ষ ধূমপানের ইতিহাস আছে কিনা। যদি দৈনিক কোন ব্যক্তি ২০টি সিগারেট বিরামহীনভাবে ১ বছর খায়, তাহলে তাকে এক প্যাক ইয়ার বলে। এভাবে যদি ১০ বছর ধূমপান করে তাহলে ওই ব্যক্তির এই রোগ হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এছাড়া পরিবেশ দূষণ, বায়ুদূষণ, বারবার ফুসফুসে সংক্রমণ, পেশাগত কারণের ইতিহাস পাওয়া যায়।
রোগের উপসর্গ কী : এই রোগের উপসর্গ প্রধানত দুইটি *   -শ্লেষ্মাযুক্ত দীর্ঘদিনের কাশি (সকালের দিকে বেশি)।-ক্রমবর্ধমান শ্বাসকষ্ট, প্রথম সব কাজ স্বাভাবিকভাবে করতে পারে, এরপর পরিশ্রম করলেই শ্বাসকষ্ট হয় এবং ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। সামান্য একটা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।-জ্বর থাকতে পারে।-বাঁশির মতো শব্দ। এছাড়া রোগের জটিলতার হিসাবে শরীরের ওজন কমে যাওয়া বা পা ফুলে যাওয়া।
রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করে কি কি পাওয়া যাবে?
রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো পাওয়া যাবে :-মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়া।-ঘন ঘন শ্বাস নেয়া।-শ্বাস নেয়ার সময় বুকের মাংসপেশী ও ত্বক বুকের খাচার ভেতরে ঢুকে যাওয়া।-কোন কোন সময় শরীর যথা- জিহ্বা ও ঠোঁট নীল হয়ে যায়।-পা ফুলে যেতে পারে।
কী কী ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করা যায়?-বুকের এক্সরে : কারণ অন্য রোগকে আলাদা করার জন্য এবং ওই রোগের জটিলতা আছে কিনা তা দেখার জন্য।-স্পাইরোমেট্রি :
*    অবসট্রাকটিভ না রেস্ট্রিকটিভ রোগ।
*   হাঁপানি থেকে আলাদা করার জন্য রিভারসিবিলি পরীক্ষা করা হয়।
কী চিকিৎসা দেয়া হয়?-প্রথম এবং প্রধানত ধূমপান ত্যাগ করা।-ধুলা, বালি, ধোঁয়া, পরিবেশ দূষণ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা।
চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।-ব্রংকডায়ালেটর জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা  *    ইনহেলার
ব্যবহার করা।-স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা *    ইনহেলার ব্যবহার করা উত্তম।-চেস্ট ফিজিওথেরাপি নেয়া।-রোগের তীব্রতা দেখা দিলে নেবুলাইজেশন, ব্রংকডায়ালেটর সলুশন দিয়ে ব্যবহার করা।-লো ফ্লো অক্সিজেন ব্যবহার করা প্রয়োজনমতো।-প্রয়োজনমতো সঠিক এন্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা।
মিউকোলাইটিক জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যায় যদি শ্লেষ্মা বেশি ঘন হয়।-প্রতি বছর ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন এবং প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নিউমোনিয়া না হওয়ার জন্য প্রতিশেধক ভ্যাকসিন নেয়া উত্তম, যদি বয়স ৬৫ বছরের বেশি হয়।
সঠিক চিকিৎসা না দিলে কি কি সমস্যা হতে পারে?-র্ক-পালমোনেইল (ঈড়ৎ চঁষসড়হধষব).-ফুসফুস বিকল (জবংঢ়রৎধঃড়ৎু ঋধরষঁৎব) হয়ে যায়।-ফুসফুসে ঘন ঘন সংক্রমণ হতে পারে।-ফুসফুসে বাতাস জমে যেতে পারে।
এই রোগ থেকে কীভাবে বাঁচতে পারি?
এই রোগ একবার হয়ে গেলে সম্পুর্ণ ভালো হয় না। তবে নিয়মিত ওষুধ খেলে রোগ সম্পুর্ণ  নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। রোগ প্রতিরোধের জন্য নিম্নের ব্যবস্থা নিতে হবে :-ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।-নিয়মিত ব্যায়াম করা ভালো।-পরিবেশ দূষণ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।-ঘন ঘন বুকে ইনফেকশন যাতে না হয় তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

Share Button

About the Author

-