Published On: Fri, Aug 28th, 2015

নানা রঙের শাড়ির ও চুলের সাজ

নানা রঙের শাড়ির ও চুলের সাজ
লাইফস্টাইল : শত বছরের ঐতিহ্যজড়ানো যে সাজ, তা কি কখনও পুরনো হয়? তাই প্রাণের উৎসবে মেতে ওঠার জন্য বাঙালি নারী আজও খুঁজে ফেরে তার চিরায়ত রূপের সেই প্রতিচ্ছবি।
লালপেড়ে সাদা শাড়ি, আলতা-চুড়ি আর টিপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালি নারীর শাশ্বত রূপের মায়া। সময়ের পরিবর্তনে হয়তো বদলে গেছে অনেক কিছুই। কিন্তুু শত বছরের ঐতিহ্যজড়ানো যে সাজে তা কি কখনও পুরনো হয়? তাই প্রাণের উৎসবে মেতে ওঠার জন্য বাঙালি নারী আজও খুঁজে ফেরে তার চিরায়ত রূপের সেই প্রতিচ্ছবি।
কাল বাদে পরশু সকালের সূর্য ছড়িয়ে দিয়ে যাবে প্রাণের উচ্ছ্বাসের আবেশ। সব অপ্রাপ্তি ভুলে শুরু হবে নতুন আরেকটি বছরের পথচলা। সর্বজনীন এ উৎসবকে ঘিরে তোড়জোড়ের শেষ নেই। বিশেষ করে বাঙালি নারীর আয়োজনটা যেন একটু বেশিই। উৎসবটা যেহেতু , তাই ঐতিহ্যের বেড়াজালে চিরাচরিত বাঙালি রূপটি ফুটিয়ে তো তুলতেই হবে। পাশাপাশি উৎসবমুখর সাজটা না থাকলেও চলবে না। বদলে যাওয়া ফ্যাশন জগতে কখনও কখনও ঝলমলে জরি-চুমকির দাপট চোখে পড়লেও ‘চোখেরবালির’ আশালতা কিংবা ‘নষ্ট নীড়ের’ চারুলতার আবেদন কমেনি কোনো কালেই। ফ্যাশন ডিজাইনার চন্দ্রশেখর সাহা মনে করেন, যত পরীক্ষা-নিরীক্ষাই করা হোক না কেন, উৎসবে লাল-সাদার যে আবেদন তা অন্য কোনো রঙ কমাতে পারবে না কখনোই। লাল পাড়ের সাদা শাড়ির সঙ্গে বড় লাল টিপ। হাতভর্তি কাচের চুড়ির রিনিঝিনি। সঙ্গে বেলি ফুলের সৌরভ জড়ানো খোঁপা। এই না হলে বাঙালি নারী!  দিনটি ছায়ানটের গানের সুরে শুরু করবেন? চিরায়ত বাঙালির এ সাজটা থাকুক না অঙ্গে! প্রতিটি দিনই তো বদলে যাচ্ছে ফ্যাশনের ধারায়। বৈচিত্র্য আসছে সাজসজ্জায়। যুগ যুগের বাঙালি ঐতিহ্যকে লালন করা এই বিশেষ দিনটিতে না হয় চুড়ি-ফিতায় সাজলেন একেবারেই গ্রামবাংলার পল্লী বধূর আদলে।
চাইলে ব্লাউজের গলায় আর হাতে লাল কুঁচি দিয়ে ষাটের দশকের আমেজ নিয়ে আসতে পারেন সাজে। ঢাকাই শাড়ি হোক কিংবা পাটভাঙা তাঁতের শাড়ি- একপ্যাঁচে পরলে বেশ লাগবে। কপালে দিন বড় লাল টিপ। সঙ্গে দু’হাতভর্তি লাল কাচের চুড়ি না থাকলে পূর্ণতা পাবে না বাঙালি সাজ। লম্বা চুলে বর্ষবরণ উৎসব বাঙালি জাতির আনন্দের উৎসব। এ দিনটিকে ঘিরে বাঙালিরা মেতে ওঠে মহোৎসবে। শুধু যেন নতুন বছরের শুরু নয়, যেন জীবনের স্পন্দন। তার সঙ্গে আসে সাজসজ্জার বিষয়টি। যে কোনো সাজের পূর্ণতা আনতে হেয়ারস্টাইল অনস্বীকার্য। আপনি যে ধরনের লুকই চান না কেন, হেয়ারস্টাইল ছাড়া অসম্পঁর্ণ থেকে যায়।সাজের ক্ষেত্রে বাঙালিয়ানা লুকটিকেই সবাই ফুটিয়ে তুলতে চায় তাদের সাজসজ্জার মাধ্যমে। তাই সাধারণত বেণি, খোঁপা ও ছাড়াচুল বা খোঁপায় ফুলের ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। এ সময়টায় প্রচণ্ড গরম ও রোদ থাকে, তাই যতটা সম্ভব আরামদায়ক চুলের সাজ করা উচিত।
ববি স্টাইল :মাঝখানে সাধারণত সিঁথি করে দু’পাশে এ ধরনের দুটি খোঁপা করা হয়। এ স্টাইলকে ববি খোঁপা বলা হয়। টয়ার এ হেয়ারস্টাইলটিতে সিঁথি করে স্টাইলটির দীর্ঘ স্থায়িত্বের জন্য পাফ করে হেয়ার প্রে ব্যবহার করা হয়েছে হালকাভাবে। অবশিষ্ট চুলগুলোকে এক পাশে এনে রাউন্ড সেটে সেটিং করা হয়েছে। এ হেয়ারস্টাইলটি সালোয়ার কামিজের সঙ্গে ভালো লাগবে। সারাদিন চুলের সাজে কোনো বিরক্তি পোহাতে হবে না।
ইসাবেল :এটি একটি পর্তুগিজ খোঁপা। মাথার মাঝ বরাবর সিঁথি করুন এবং সামনের দিকের চুল দু’ভাগে দুই পাশে রাখুন। মাথার উপরের মাঝ বরাবর কিছু চুল পাফ করে সামান্য ফুলিয়ে পেছনে ক্লিপ আটকে সেট করে নিন। এবার পেছনের অবশিষ্ট চুল খোঁপার সেপে আটকে নিন। এবার সামনের দু’পাশের অবশিষ্ট চুলগুলো সিঁথির শুরু থেকে সামান্য করে চুল নিতে নিতে বেণি করুন এবং দু’পাশের বেণি খোঁপার পাশে আটকে নিন। খোঁপাকে ডেকোরেট করতে একপাশে ফুল আটকে নিন।
টুইস্ট বান :চুল সামনে ও পেছনে ভাগ করে নিন। পেছনের ভাগের মাঝখানের চুল সামান্য পাখা করে পেছনে ক্লিপ আটকে সেট করে নিন এবং পেছনের চুলগুলোর দ্বারা খোঁপা করে নিন। এবার সামনের ছেড়ে রাখা চুলগুলো বেশ কয়েকটি সমান ভাগে ভাগ করুন। চুলের প্রত্যেক ভাগ পেঁচিয়ে হালকাভাবে বেশি টাইট করবেন না। দু’পাশে পিন দিয়ে আটকে নিন। ফুল পরতে পারেন, ভালো লাগবে।
হাইপ্লান্ট বেণি :নীরার এ হেয়ারস্টাইলটিতে চুলগুলোকে মোট তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মাঝের ভাগের চুলগুলো দুই পাশের চেয়ে উঁচু করে পাফ করে ফুলিয়ে সেট করুন। পেছনের দিকে দু’পাশের চুলগুলো ফ্ল্যাটভাবে সেট করুন। এবার অবশিষ্ট চুলগুলোকে বেণি করে নিন। চুল যদি ছোট হয় তাহলে বেণির জন্য আলগা চুল/টারসেল লাগাতে পারেন। এটি সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে যথেষ্ট কমফোর্টেবল এবং দেখতেও ভালো লাগবে।
ছাড়া চুল :বর্তমানে মেয়েরা চুল ছেড়ে রাখতেই বেশি পছন্দ করে। সারাদিনের সাজে চুল যেন আপনার বিরক্তির কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। আপনি যদি ছাড়া চুল এই গরমে ম্যানেজ করতে পারেন তাহলে এটি ভালো না লাগার তো কোনো কারণই নেই।সাজের গুরুত্বে পরতে পারেন একপাশে ফুল। কানের কাছের চুলগুলো একটু সান থেকে সরিয়ে নিয়ে কানের ঠিক পাশে সেট করুন ফুল। ক্লিপ দ্বারা ফুল অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে আপনার সাজকে।
সতর্কতা
ষ  প্রচণ্ড গরম ও রোদ থাকে। সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি এবং ফ্রি র‌্যাডিকাল আমাদের চুলের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে চুল ভঙ্গুর হতে পারে। হারাতে পারে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা।
ষ চুল ভালো রাখতে প্রথমেই প্রয়োজন পরিচ্ছন্নতা। তাই প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে কোনো ক্ষতি নেই। প্রয়োজনে শ্যাম্পুর সঙ্গে পানি মিশিয়ে শ্যাম্পুকে হালকা করে নিন।
ষ হেয়ারস্টাইল যাই করুন, দিনশেষে বাসায় ফিরে শ্যাম্পু+কন্ডিশনিং করুন।
ষ রাতে তেল লাগাতে পারেন। তেল চুলের জন্য সবচেয়ে ভালো কন্ডিশনার।
ষ চুল ছাড়া রাখতে চাইলে আগে একটি সুন্দর হেয়ারকাট নিতে পারেন।
ষ সাজের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সাধারণ থাকা যায় ততই ভালো। প্রথমত, খেয়াল রাখবেন নিজের আরামের বিষয়টি।
ষ আপনার চুল যদি খোলা রাখতে চান তাহলে অবশ্যই ব্যাগে ক্যারি করুন একটি চিরুনি, হেয়ার ব্যান্ড, পাঞ্জ ক্লিপ, সেটিং ক্লিপ। যদি ছাড়া চুলে স্বাচ্ছন্দ্যবোঁধ না করেন তাহলে চুলগুলো আটকে নিন।
ষ গরমের কারণে ফুল অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। সকালের পরা ফুলগুলো সারাদিন থাকতে চায় না। সেক্ষেত্রে খেয়াল করুন আপনার চুলের ফুলগুলো ঠিক আছে কি-না। নষ্ট ফুল খুলে ফেলুন। প্রয়োজনে সম্ভব হলে নতুন ফুল পরতে পারেন।
ষ অবশ্যই আপনার ব্যাগে ক্যারি করুন এক বোতল পানি বা ফ্রেশ জুস ও ওরস্যালাইন।

Share Button

About the Author

-