Published On: Tue, Jun 9th, 2015

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির সংকট

Share This
Tags

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : এতো বড়ো হাসপাতালে কল নাই একটাও! কলেজের সামনের একটি কল থেকে পানি আনতে হয়। এ কলও শক্ত, ফোঁটা ফোঁটা করে পানি পড়ে। এভাবেই সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের পানি কষ্টের কথা বলছিলেন মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বাদেসাদকপুর গ্রামের গুলনাহার বেগম (৫৬)। হাসপাতালের পাঁচটি নলকূপ ৫/৭ বছর যাবৎ অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। গভীর নলকূপ থেকে বিকল্প পানির লাইন টেনে একটি পানির ট্যাপ দিয়ে প্রতিদিন ৭০০ মানুষের বিশুদ্ধ খাবার পানির অস্থায়ী ব্যবস্থা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সদর হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি টিউবওয়েল রয়েছে। এগুলো হলো- আবাসিক এলাকায় একটি, জরুরী বিভাগের পাশে একটি, মর্গের পাশে একটি, মসজিদের পাশে একটি ও ১নং গেইটের পাশে একটি। কিন্তু টিউবওয়েলগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। সুনামগঞ্জ হাসপাতালের পানির কল নষ্ট, তাই বাইরের টিউবওয়েল থেকে পানি আনেন রোগীর স্বজনরা। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে পাঁচ শতাধিক, আন্তঃবিভাগে দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। আন্তঃবিভাগে রোগী ও তাদের অভিভাবকরা দিনে তিন থেকে চারবার বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ করেন। খাবার ও ব্যবহারের পানির কষ্ট থাকায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালের আশপাশের এলাকাগুলোর বাসা বাড়ি থেকেও রোগীর অভিভাবকরা খাবার পানি সংগ্রহ করে থাকেন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স আকলিমা খাতুন বলেন, অনেক গরীব রোগীর বাইরে থেকে ওষুধ কেনারই ক্ষমতা নেই। কিন্তু খাবার স্যালাইন বানাতে দোকান থেকে বোতলজাত পানি কিনে আনতে হয়। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা বুড়িস্থল গ্রামের পিয়ারা বেগম বলেন, কয়েক দিনের গরমে ঘন ঘন পানির তেষ্টা লাগে। কিন্তু পানি আনতে গেলে জীবন বাইর হইয়া যায়। আধ ঘণ্টায় এক বোতল পানি বাইর করন যায় না। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের রমলা খাতুন বলেন, পানি আনতে গিয়া জীবন নষ্ট হয়ে যায়, সুস্থ মানুষও অসুস্থ হইয়া পড়ে। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের ডিপ টিউবওয়েল থেকে সরাসরি একটি লাইনে পানির ট্যাপ স্থাপন করে আপাতত সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া রোগী ও তাদের অভিভাবকদের বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ফিল্টার ট্যাংক নির্মাণের কাজ চলছে। এটি শেষ হলে খাবার পানির সমস্যা থাকবে না।

Share Button

About the Author

-