Press "Enter" to skip to content

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মায়ের কারণে ছাত্র কে বহিস্কার

মোঃ আলাউদ্দীন,হাটহাজারী(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় অবস্থিত পার্বতী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর তানিম আহমেদ সাকিব নামে এক ছাত্রকে অবৈধভাবে ছাড়পত্র (টিসি) প্রদান করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দীন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম মোতাবেক নবম শ্রেনীতে রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীকে বোর্ডের অনুমতি ছাড়া ছাড়পত্র (টিসি) দেয়া যায়না। তবে বিশেষ কোন কারন থাকলে বা জরুরী প্রয়োজনে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলে নতুন যে বিদ্যালয়ে ভর্তি হবে সে
বিদ্যালয়ের সম্মতিপত্র শিক্ষাবোর্ডে দাখিল করে ও নির্ধারিত ফি
পে অর্ডার আকারে ব্যাংকে জমা করে তারপর বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে ছাড়পত্র (টিসি) দেয়া যায়। শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে এই ছাত্রকে তার মায়ের জন্য টিসি দেওয়া মোটেও উচিত নয় বলে মনে করেন সচেতন মহল।

img_20160904_135939সাকিব বলেন, প্রধান শিক্ষক আমার কাছ থেকে একটা আবেদন পত্র লিখিয়ে নিয়ে ছাড়পত্র (টিসি) ধরিয়ে দেন। বিদ্যালয় হতে টিসি পেয়ে আমি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ীতে গিয়ে ঘটনাটি আমার আম্মুকে জানায়। তারপর থেকে এই বিষয়টি নিয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সাত আট মাস বার বার ধরনা দিয়েও কোন প্রতিকার কিংবা ন্যায় বিচার না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করি এবং স্থাণীয় কিছু সংবাদকর্মীর কাছে সহযোগিতার জন্য বার বার যোগাযোগ করি কিন্তু সেখানেও সবার সহযোগিতা পাইনি আমি।
এর পরও ছেলের শিক্ষা জীবন নিয়ে আমি চরম উদ্বিগ্ন ও অনিশ্চয়তাই দিন যাপন করছেন বলে জানান বহিস্কৃত ছাত্র তানিম আহমেদ সাকিব এর মা শাহিন আকতার।
তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন আমার ছেলে তানিমকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বলেন, তোকে আর এই স্কুলে রাখবো না। তোর মার কারণে তুই আর এ স্কুলে পড়ালেখা করতে পারবিনা। তুই কাল থেকে আর স্কুল আসবিনা।

আমার কারণে কেন আমার ছেলে স্কুলে পড়তে পারবেনা। আমার কী অপরাধ? প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন আমার মাঝে কি দোষ দেখতে পেয়েছেন যার কারণে আমার ছেলে স্কুলে পড়তে পারবেনা?
এদিকে অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দশম শ্রেনীর নির্বাচনী পরীক্ষায় তানিম অংশ নিতে পারবে কিন সেটা নিশ্চিত না হওয়ায় তানিমকে অন্য স্কুলে ভর্তির জন্যও চেষ্টা করেছে তানিমের অভিভাবকরা। তবে বিধি মোতাবেক ছাড়পত্র না পাওয়ায় অন্য স্কুলে তানিমকে ভর্তি করাও সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

স্থাণীয় বাসিন্ধা শাহআলম,কায়ছার,জানে আলম, রহিম বক্স, ছোটন ও আরো অনেকে ক্ষোভের সাথে বলেন, হাটহাজারীতে প্রায় ৩০ জনের বেশি সাংবাদিক কাজ করেন, এদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকের সাইনবোর্ড লাগিয়ে চলাফেরা করেন কিন্তুু এতো বড় জঘন্য একটা ঘটনা ৩/৪ টা পত্রিকা ও কয়েকটা অনলাইন নিউজ ছাড়া আর কোথাও কোনো নিউজ হলোনা। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যাপার।

হাটহাজারী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচিত সদস্য মোঃ আতাউর রহমান মিয়া জানান, এই ছেলেটির টিসির ব্যাপারে জানতে গেলে প্রধান শিক্ষক আমার সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণ করে বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

img_20160907_175008এ ঘটনার পর অভিভাবকরা তাদের স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন নিয়ে চরম আতংকে রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দীন জানান, নবম আর দশম শ্রেণির টিসি দিতে শিক্ষা বোর্ডের অনুমতির প্রয়োজন নেই।

এই ব্যাপারে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফসানা বিলকিস জানান এই অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে।

Share Button
More from শিক্ষা ও সাহিত্যMore posts in শিক্ষা ও সাহিত্য »

Comments are closed.