Press "Enter" to skip to content

কক্সবাজারের হিমছড়ি পর্যটন স্পট ব্যবসায়িদের চলছে ধর্মঘট ॥ পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাব

কক্সবাজারের পর্যটন স্পট হিমছড়িতে বিনা নোটিশে উচ্ছেদের নামে শতাধিক দোকান ভাংচুর, লুটপাট ও ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবাদে অনির্দৃষ্টকালের জন্য ব্যবসায়িদের ধর্মঘট চলছে। এতে করে অন্তত ১০ হাজার পর্যটক চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিরূপ প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পে। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা আলী কবিরের অপসারণ ও শাস্তির দাবীতে সোমবার দুপুরে হিমছড়ি বাজার ব্যবসায়িরা বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশ করেছে।
পর্যটন স্পট হিমছড়ি বাজার প্রাঙ্গনে অনুষ্টিত হিমছড়ি বাজার দোকান মালিক সমিতি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, হিমছড়ি বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও খুনিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ, সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা কামাল উদ্দিন মেম্বার ও যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ বিদ্যুৎ মেম্বার, জেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগ নেতা ও সহ- সভাপতি নুরুল আলম নুরু প্রমূখ।
coxsbazar-pict-19-09-9বক্তারা বলেন, রোববার বিকালে হিমছড়ি বাজারে উচ্ছেদের নামে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও’র নেতৃত্বে শতাধিক দোকান ভাংচুর করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের ১০ কোটি টাকার ক্ষতি ও এসময় প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়। বনকর্মীদের হামলায় আহত হয়েছে ১০ জন ব্যবসায়ী।
বিনা নোটিশে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানের নামে ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবাদে ও ডিএফও আলী কবিরের অপসারণের দাবিতে রোববার বিকাল থেকেই ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করে। এতে হিমছড়ি পর্যটন স্পটে আগত অন্তত ১০ হাজার পর্যটক খাবার- পানি সংকটে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে হিমছড়ি ঝর্ণা স্পটে পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে সেখানে একটি বাজার গড়ে উঠে। যার পরিপ্রেক্ষিতে জঙ্গল খুনিয়াপালং মৌজা ৪ একর ৮০ শতক জমিকে বাজারের জন্য ফেরিফেরি ঘোষণা করে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন। মিস মামলা নং-৭৩/ ০৯/১০ নথিতে বিগত ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১০ সালে জেলা প্রশাসকের আদেশের প্রেক্ষিতে বিএস ১৬ দাগের ০.১০ একর, বিএস ২০ দাগের ৪ একর ২০ শতক ও বিএস ৪৩ দাগের ০.৫০ একর জমিকে বাজারের জন্য ফেরিফেরি ঘোষণা করে সেখানে উপজেলা প্রশাসন ১৩২টি দোকান ঘর ইজারা দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা ডিসিআর কেটে উক্ত দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।
উক্ত জমিতে বনবিভাগের কোন স্বত্ত্ব না থাকলেও পূর্বের দখল দাবি করে বিভিন্ন সময় বনকর্মীরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে বনবিভাগের বিরোধ দীর্ঘদিনের। যার জের ধরে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ডিএফও আলী কবিরের নেতৃত্বে উচ্ছেদে নাম করে ব্যবসায়ীদের উপর ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
হিমছড়ি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও খুনিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদ বলেন, ব্যবসায়িদের ক্ষতির কারণে অন্তত ১০ হাজার পর্যটক চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এতে করে পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
হিমছড়ি দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন মেম্বার বলেন, ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও ডিএফও’র অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত হিমছড়ির সমস্ত দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশের পর হিমছড়ি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মাবুদ চেয়ারম্যানের নের্তৃত্বে একটি ব্যবসায়ি প্রতিনিধি দল বিকাল ৩টায় জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসনের সাথে দেখা করেন এবং পর্যটন স্পট হিমছড়ি এলাকায় ব্যবসায়ি ও পর্যটকদের দুর্ভোগের কথা জানান। এসময় জেলা প্রশাসন মোঃ আলী হোসেন ব্যবসায়ি ও পর্যটকদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেম্বার আবদুল্লাহ বিদ্যুৎ।

Share Button
More from চট্টগ্রামMore posts in চট্টগ্রাম »

Comments are closed.