Press "Enter" to skip to content

কক্সবাজার সদরে ইজারা ছাড়া আটটি স্থানে কোরবানি পশু বেঁচা কেনার হাট

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন : কক্সবাজার সদর উপজেলার দু’টি স্থানে অন্তত ২ কোটি টাকা রাজস্ব নিয়ে সরকারী ভাবে ইজারা দেয়া বাজারের পাশাপাশি ৮টি স্থানে অবৈধ পশু বেঁচা কেনার হাট বসেছে। এতে একদিকে যেমন ইজারা নেয়া বাজার কর্তৃপক্ষ ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন অন্যদিকে অবৈধ বাজার থেকে সরকার কোন ধরনের রাজস্বও পাচ্ছে না। অথচ সেখানে শতকরা হিসেবে টোল দিয়ে কেনাবেচা হচ্ছে কোরবানীর পশু।
অবৈধ কোরবানি হাটে চাঁদাবাজি ও জাল টাকার ছড়াছড়িসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য সমস্যায় উদ্বিগ্ন পশু ব্যবসায়ীরা। অসাধু ব্যবসায়ীদের অসুস্থ গরুর ব্যাপারে এখনও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কোন তদারকির না থাকায় হতাশ ক্রেতারাও। বিপুল অংকের রাজস্বে আগামী বছর এই দু’টি বাজার ইজারা গ্রহীতা পাবে কিনা এনিয়েও শংকা প্রকাশ করেছে অনেকে।
জানা গেছে, সদর উপজেলায় সরকার-নির্ধারিত খরুলিয়া ও ঈদগাঁও বাজারে পশুর হাটের বাইরেও কমপক্ষে আটটি স্পটে অবৈধ হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা চলছে। বেশির ভাগই সড়কের পাশে এসব অবৈধ হাট বসার কারণে যানজটে অসহনীয় দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে সাধারণ মানুষ। কোনো ইজারা না থাকায় এসব হাটে চলছে ফ্রি-স্টাইল চাঁদাবাজিও। আর এতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে খরুলিয়া ও ঈদগাঁও বাজারে টোল আদায় শতকরা হিসেবে না হওয়ায় কোরবানীর পশু ক্রেতা বিক্রেতারা এখানে সুবিধা ভোগ করছে বেশি।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার সরকারী ভাবে ইজারা দেয়া বাজারগুলো হচ্ছে খরুলিয়া ও ঈদগাঁও বাজার। অন্তত ২ কোটি টাকায় এই দু’টি বাজার ১৪২৩ বাংলা সনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ইজারা দেয়। এছাড়াও পৌরসভার অধীনে শুধু কোরবানীর পশু কেনা বেচার জন্য অনুমোদিত অস্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এসব হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৌসুমি পশু ব্যবসায়ীরা গরু, মহিষ ও ছাগল আনতে শুরু করেছে। আর তা কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খরুলিয়া ও ঈদগাঁও এলাকায় বাঁশ ও তেলপাড় দিয়ে অস্থায়ী গোয়াল ঘর তৈরি করে বিক্রির জন্য পসরা সাজিয়ে বসিয়েছে ব্যবসায়িরা। খরুলিয়া ও ঈদগাঁও বাজার এলাকায় পেশাদার ব্যবসায়ীদের সাথে সাথে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা কোরবানি হাটে বিক্রির লক্ষে বেশ কয়েকদিন ধরে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকা থেকে গরু ক্রয় করে খোলা মাঠে বা নানা খালি জায়গায় তাঁবু টানিয়ে অস্থায়ী গোয়ালঘর তৈরি করে লালন-পালন করছে। আর তাদের অধিকাংশই একই স্থানে রেখে তাদের পশু বিক্রি করবেন বলে জানায়।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, কোরবানি উপলক্ষে কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও এবং খরুলিয়ায় দু’টি স্থায়ী ও কক্সবাজার পৌরসভায় ১টি পশুর হাটকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর বাইরেও সদর উপজেলার পোকখালী গোমাতলি, ঈদগাঁও কালিরছড়া, চৌফলদন্ডি, ইসলামপুর বাজার, পিএমখালী জুমছড়ি, পিএমখালী চেরাংঘাট, খুরুস্কুল তেতৈয়া এলাকায় কোরবানি পশুর অস্থায়ী অবৈধ বাজার গড়ে উঠেছে। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবৈধ এসব হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা চলছে। ফলে বাড়তি ভোগান্তির আশংকা করছেন উপজেলার জনসাধারণ।
অবৈধ এসব হাটের অধিকাংশের সঙ্গে স্থানীয় সরকারদলীয় লোকজন ও প্রভাবশালীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছে সাধারণ মানুষ।
খরুলিয়া ও ঈদগাঁওতে দুটি স্থায়ী বাজারে গরু-মহিষ ক্রেতা বিক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন ইজারাদাররা।
খরুলিয়া বাজার ইজারাদার শরীফ উদ্দিন (এমইউপি) ও ঈদগাঁও বাজার ইজারাদার রমজানুল আলম কোম্পানী জানান, সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা, গাড়ী পাকিং,লাইটিং এবং ক্রয়কৃত গরু-মহিষ প্রয়োজনে ইজারাদারের জিম্মায় নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও নিয়েছে।
তারা আরো জানান, দুটি বাজার অন্তত ২ কোটি টাকায় ইজারা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ পশুর হাট বসার কারণে এবছর বিপুল অর্থ লোকসান হওয়ার আশংকা করেছে তারা।
সাধারণরা মনে করছেন, অবৈধ গরুর বাজারের ব্যাপারে প্রশাসনের উদ্যোগ নিলে সরকার রাজস্ব পাবে। এছাড়াও অসুস্থ পশু চিহ্নিতকরণ ও বৈধ বাজারে চাঁদাবাজি রোধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহীনুর ইসলাম জানান, সদর উপজেলায় দু’টি অনুমোদিত বাজার রয়েছে। এর বাইরে আর কোন কোরবানীর পশুর হাট অনুমোদন দেয়া হয়নি। অবৈধভাবে গড়ে উঠা বাজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Share Button
More from চট্টগ্রামMore posts in চট্টগ্রাম »

Comments are closed.