Press "Enter" to skip to content

তাহিরপুরে চিকিৎসকের সাথে আতাত করে আসামি পক্ষ্য হাতিয়ে নিল ভিকটিমের চিকিৎসা সনদ!

মো. শাহীন আলম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ)::

ভুয়া অবিভাবক সেজে চিকিৎসকের সাথে গোপন আতাত করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আসামী পক্ষের লোকজন হাতিয়ে নিল ভিকটিমের চিকিৎসা সনদ। ওই সনদের কপি ব্যবহার করে বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনও নিয়েছে মামলার আসামী কবির মিয়া ও তার অপর সহযোগিরা। মামলার বাদী ও স্বজনরা শুক্রবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসাজনিত সনদের খোঁজ খবর নিতে গেলে এ প্রতারণার ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। আসামী পক্ষ্যের ফাঁদে পড়ে চিকিৎসকের ওই চিকিৎসা সনদ দেয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়ার পাশাপাশী মোটা অংকের উৎকোচ নিয়েই চিকিৎসা সনদ দেয়া হয়েছে বলেও নানা কানাগুসা চলছে।
মামলার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীপুর উওর ইউনিয়নের মনতলা গ্রামের দিনমজুর আব্দুল জহুর ও তার পরিবারের লোকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গত ২ আগষ্ট মঙ্গলবার পূর্ব বিরোধের জের ধরে অতর্কিত হামলা চালায় কুড়েরপাড় গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শাহনুর মিয়ার ছেলে কবির ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় জহুরের দুই ছেলেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ৭ আগষ্ট আব্দুল জহুর বাদি হয়ে কবির মিয়া সহ ১৯ জনকে আসামি করে দন্ডবিধি আইনের ৩২৬/৩০৭ সহ গুরুতর বিভিন্ন ধারায় তাহিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং জি/আর- ০৩ মামলার বাদি আব্দুল জহুর জানান, ঘটনার পর থেকে কৌশলে রোগীকে হাসপাতাল ত্যাগ করানো, মামলা রেকর্ড না করানোর জন্য কবির নানা কৌশল ও প্রতারণাতার আশ্রয় গ্রহন করে। নানা কৌশল অবলম্বন করে করে প্রতারণা ও চিকিৎসকের সাথে গোপন আতাত করে ভিকটিমের ভুয়া অবিভাবক সেজে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সাধারণ একটি চিকিৎসা সনদ হাতিয়ে নিয়ে আদালত থেকে জামিন নেয় আসামি কবির ও তার অপর সহযোগীরা।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রতারক কবির মিয়া উপজেলার মাটিয়ান হাওরের চাঞ্চল্যকর ত্রিপল মার্ডার (দায়রা-১৫/০৪), অবৈধ অস্ত্র মামলাসহ (জি.আর-১৫০/১৫) আদালতে বিচারাধীন একাধিক মামলার আসামি কুড়েরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহানুর মিয়ার গুণধর ছেলে ও সেও পিতার ন্যায় একাধিক বিচারাধীন মামলার আসামী ।
এ ব্যাপারে কবির মিয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে ওই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে, আমি ঘটনার সাথে জড়িত ছিলাম না, হাসপাতাল থেকে আমি চিকিৎসা সনদ নেইনি।
মামলার তদন্তকারী অফিসার থানার এসআই মুহিত বললেন, বিজ্ঞ আদালত কিংবা মামলার তদন্তকারী অফিসার চিকিৎসা সনদ পত্র চাইলেই কেবল হাসপাতাল কতৃপক্ষ তা দিতে পারেন। অন্য কোন উপায়ে আসামী পক্ষ চিকিৎসা সনদ নিয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. শাখাওয়াত হোসেনের নিকট শনিবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন, চিকিৎসা সনদ নেয়ার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে জানানো হবে।
সিভিল সার্জন ডা. আবদুল হাকিমের নিকট বিস্তারিত জানিয়ে শনিবার এ বিষয়ে উনার মতামত জানতে চাইলে তিনি বললেন, মামলার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি কিংবা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিদা ছাড়া চিকিৎসা সনদ দেয়ার এখতিয়ার কোন চিকিৎসকের নেই। যদি তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোন চিকৎসক মামলার আসামী পক্ষকে ভিকটিমের চিকিৎসা সনদ দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share Button
More from রংপুরের খবরMore posts in রংপুরের খবর »

Comments are closed.