Press "Enter" to skip to content

বেসিক কেলেংকারিতে বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা আছে: অর্থমন্ত্রী

ঋণ কেলেংকারির ঘটনায় রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশে ব্যাংক ও বহিঃনিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে এ তথ্য জানান অর্থ প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক কর্তৃক নিয়োগকৃত বহিঃনিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের দাখিলকৃত কার্যভিত্তিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অনিয়মিত ঋণ মঞ্জুর, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে উল্লেখ রয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেংকারির সঙ্গে ২৭ জন কর্মকর্তা, ৫৬টি ব্যবসায়িক ও আটটি সার্ভেয়ার প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকার বিষয়টিও প্রতিবেদনে এসেছে বলে জানানো হয়।

বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেংকারিতে জড়িত ব্যক্তিরা হলেন- ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম সাজেদুর রহমান ও কাজী ফখরুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মঞ্জুর মোরশেদ, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুস সোবহান ও কনক কুমার পুরকায়স্থ, সাময়িক বরখাস্তকৃত উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ মোনায়মে খান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সেলিম, মহাব্যবস্থাপক জয়নুল আবেদিন চৌধুরী ও মোজাম্মেল হোসেন, সাময়িক বরখাস্ত মহাব্যবস্থাপক খন্দকার শামীম হোসেন, মহাব্যবস্থাপক  মনিরুজ্জামান, গোলাম ফারুক খান, চাকরিচ্যুত মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক কোরবান আলী, উপমহাব্যবস্থাপক ওমর ফারুক, চাকরিচ্যুত উপমহাব্যবস্থাপক শিপার আহমেদ, সাময়িক বরখাস্ত উপমহাব্যবস্থাপক এসএম ওয়ালিউল্লাহ, সহকারী মহাব্যবস্থাপক- জহির উদ্দিন, ইমরুল ইসলাম, আবদুস সবুর, আবদুস সাত্তার খান, পলাশ দত্ত গুপ্ত ও ইকরামুল বারী, সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক সরোয়ার হোসেন, ব্যবস্থাপক মুহিবুল হক, চাকরিচ্যুত উপব্যবস্থাপক এসএম জাহিদ হাসান,  উপব্যবস্থাপক এনএ তোফিকুল আলম।

জড়িত ৫৬টি প্রতিষ্ঠান হলো- আজাদ ট্রেডিং, ভাসাবি ফ্যাশন, তাহমিনা ডেনিম, লাইফ স্টাইল ফ্যাশন মেকার, ইউকে বাংলা ট্রেডিং, তাহমিনা নিটওয়ার, ফারশি ইন্টারন্যাশনাল, খাদিজা অ্যান্ড সন্স, লিটল ওয়ার্ল্ড, এআরএসএস এন্টারপ্রাইজ, আমিরা শিপিং এজেন্সি, এশিয়ান শিপিং বিডি, এসএফজি শিপিং লাইন, মনিকা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, ফাস্ট অ্যান্ড বেস্ট ট্রেড ইমপেক্স, ট্রেড হাউজ, এশিয়ান ফুড ট্রেডিং, সুরমা স্টীল এন্ড স্টীল ট্রেডিং, সিলভার কম ট্রেডিং, সিনট্রেক্স, বি আলম শিপিং লাইনস, এসএল ডিজাইনার, তানজিনা ফ্যাশান, ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ, নাহার গার্ডেন, এলআর ট্রেডিং, সৈয়দ ট্রেডার্স, রুদ্র স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ, নিউ অটো ডিফাইন, টেলিউইজ ইন্টারন্যাশনাল, ডায়নামিক ট্রেডিং, আহমেদ ওয়েলস মিলস, বিথী এন্টারপ্রাইজ, ওমারেল্ড স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ, এমারেল্ড অটো ব্রিকস, প্রোপেল ইন্টারন্যাশনাল, আর আই এন্টারপ্রাইজ, গুঞ্জন এগ্রো এরামেটিক অটো রাইস মিল, হক ট্রেডিং, ভয়েস এন্টারপ্রাইজ, হাসিব এন্টারপ্রাইজ, এস ও এস ব্রাদার্স, আলী কন্সট্রাকশন অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স, বাশার এন্টারপ্রাইজ, এমারেন্ড ওয়েল, সিমেক্স, আর কে ফুডস, সৈয়দ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভোলপারস, রিলায়েন্স শিপিং লাইনস, সৈয়দ কনস্ট্রাংকস, নীল সাগর এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিজ, নীল সাগর এগ্রো ইন্ডাট্রিজ (ফিড মিল ইউনিট), পারমা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়াকর্স, এমারেল্ড ড্রেস, বর্ষণ এগ্রো ইন্ড্রাট্রিজ, আজবিহা এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিজ।

জড়িত সার্ভেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এসবি সার্ভে ফার্ম, রূপসা সার্ভেয়ার, পিএসআর, বিডিএস এডজাস্টার,  ইউনিক সার্ভে সার্ভিস ব্যুরো, প্রফেশনাল এসোসিয়েটস, দেশ পরিদর্শন কোং, আইএইচএস ইন্সপেকশন।

তবে বেসিক ব্যাংকের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেংকারির ঘটনা তদন্ত করলেও আবদুল হাই বাচ্চুকে অভিযুক্ত করেনি দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখার মাধ্যমে এ অনিয়ম হয়। এ ঘটনায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৮টি মামলার কোনোটিতে বাচ্চুকে আসামি করেনি দুদক। সূত্র : যুগান্তর

Share Button
More from অর্থনীতিMore posts in অর্থনীতি »

Comments are closed.