Press "Enter" to skip to content

বাংলাদেশে এটিএম বুথগুলোতে আন্তঃ ব্যাংকিং বন্ধ রেখেছে ব্যাংকগুলো

 বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর মোট ৭ হাজারের মতো এটিএম বুথ রয়েছে।

বাংলাদেশে সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম কার্ড গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠবার পর আজ দেশটির অধিকাংশ ব্যাংকই তাদের এটিএম বুথগুলো থেকে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের সেবা দেয়া বন্ধ রেখেছে বলে জানা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সিস্টেমের আওতায় এটিএম বুথে আন্তঃ ব্যাংকিং সেবা দিয়ে থাকে, অর্থাৎ এক ব্যাংকের বুথ থেকে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকেরা অর্থ লেনদেন করতে পারেন।

কিন্তু গত শুক্রবার বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংকের একুশ জন গ্রাহক সহ আরো কয়েকটি ব্যাংকের গ্রাহকদের এটিএম কার্ডের তথ্য জালিয়াতি করে চোরেরা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্কতা জারি করার পর ব্যাংকগুলো এই ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বেসরকারি সিটি ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের বুথগুলোতে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের সেবা দান বন্ধ রাখবার খবর বিবিসির কাছে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরো জানান, অন্য ব্যাংকগুলোও একই ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

এর ব্যাখ্যা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু বেশ কিছু ব্যাংকের কার্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল করে ফেলেছে চোরেরা, ফলে তারা মনে করছেন, এখনো কিছু কার্ড রয়ে গেছে চোরেদের হাতে যেগুলো দিয়ে আরো অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে তারা।

‘কিন্তু আমরা যেহেতু এক ব্যাংকের বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ড ঢোকাতে দিচ্ছি না, ফলে তাদের চুরি করার ক্ষেত্র অনেক ছোট হয়ে যাবে’। বলছিলেন ওই কর্মকর্তা।

এই সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে বলেও উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা।

Image copyrightBBC Bangla
Image captionবাংলাদেশে মোট ৮৫ লাখ এটিএম কার্ড গ্রাহক রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক রয়েছে আরো ৫ লাখ।

এ খবরটি নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংকগুলোর দুই সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস’ এবং ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের’ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, তারা এটিএম বুথগুলোতে আন্তঃ ব্যাংকিং বন্ধ রাখবার কোনও নির্দেশনা দেয়নি।

“গ্রাহকদের স্বার্থই আমাদের কাছে সবার আগে। ব্যাংকগুলো যদি এমনটি করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে আমাদের”। বলছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, দেশটিতে ৮৫ লাখের মতো এটিএম কার্ড ব্যবহারকারী রয়েছেন। এদেরকে সেবা দেবার জন্য সবগুলো ব্যাংক মিলে ৭ হাজারের মতো এটিএম বুথ রয়েছে।

এটিএম বুথে আন্তঃ ব্যাংক সেবা বন্ধ রাখা হলে, নিঃসন্দেহে বহু গ্রাহক হয়রানীর শিকার হবে।

এদিকে বাংলাদেশ বাংক আরো বলছে, শুক্রবারের জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে আজ জরুরী বৈঠক করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এ ব্যাপারে অচিরেই নতুন এক গুচ্ছ নির্দেশনা দেয়া হতে যাচ্ছে ব্যাংকগুলোকে।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

Share Button
More from অর্থনীতিMore posts in অর্থনীতি »

Comments are closed.