Press "Enter" to skip to content

(title)

দেশে অবকাঠামো ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার কারণে মোটরসাইকেল শিল্পের বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে। কিন্তু উচ্চ নিবন্ধন খরচসহ বেশ কিছু কারণ এ শিল্পের বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় এ বাজারকে শক্তিশালী করতে উত্পাদন ও সংযোজনবান্ধব নীতিমালার দাবি জানিয়েছেন এ খাতসংশ্লিষ্টরা।

গত রবিবার বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের এক বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান এ টি এম মুর্তজা রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে মোটরসাইকেল সংযোজনকারী, উত্পাদক এবং আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএএমএ), উত্তরা মোটর্স, রানার অটোমোবাইল, রোড মাস্টার, মেনোকা মোটর্স, টিভিএস অটো, কর্ণফুলী ইন্ডাস্ট্রিজ, রাসেল ইন্ডাস্ট্রি, র্যাংকন মোটর বাইক, আফতাব অটোমোবাইলস প্রতিনিধি ছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স ও ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও উত্তরা মোটর্সের এমডি মতিউর রহমান শিল্প স্থাপনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর চেয়ে অনেক কম এবং দিন দিন এর বিক্রি হ্রাস পাচ্ছে। জনসংখ্যা, অবকাঠামো ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে দেশে এর বিশাল বাজার রয়েছে। এ বাজার ধারণ করার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রয়োজন। বর্তমান নীতিমালায় একক উত্পাদকের ক্ষেত্রে যে মেশিনারিজ স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে তার অনেকটিই অপ্রয়োজনীয়। কোনো একক উত্পাদকের পক্ষে মোটরসাইকেলের সব যন্ত্রাংশ উত্পাদন সম্ভব নয়। ১৫৫ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল আমদানির যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা শিথিল করার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে বিভিন্ন কম্পানির এমডি ও প্রধান নির্বাহীরা দেশে মোটরসাইকেল শিল্প সম্প্রসারণ এবং আমদানি হ্রাসের মাধ্যমে মোটরসাইকেল উত্পাদনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁরা ভোক্তাদের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, গুণগত মান ও বিক্রয়োত্তরসেবা তথা খুচরা যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। তাঁরা মোটরসাইকেলের অযৌক্তিক উচ্চ রেজিস্ট্রেশন খরচ এবং ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারকে এ শিল্পের জন্য অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেন।

মেনোকা মোটর্সের নির্বাহী পরিচালক বলেন, সংযোজনশিল্প অর্থনীতিতে অনেক লিংকেজ সৃষ্টির মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ করেছে। পরিবেশক, খুচরা যন্ত্রাংশ, বিক্রেতা, ওয়ার্কশপ মার্কেটিং নেটওয়ার্কে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাই সংযোজনশিল্পকে শ্বাসরোধ করার মতো অন্তরায় সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।

সভার সভাপতি ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, মোটরসাইকেল শিল্পের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করে মোটরসাইকেল শিল্পের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার খসড়া প্রণয়নে কমিশন ভূমিকা রাখবে।

Share Button
More from অর্থনীতিMore posts in অর্থনীতি »

Comments are closed.