Published On: Sun, Dec 6th, 2015

সাত কারণে সব সময় তৃষ্ণার্ত

স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষ তৃষ্ণার্ত হলে পানি পান করলেই তা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু পানি পানের পরও যদি পিপাসা না যায় তাহলে তার পেছনে শারীরিক কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন। এ লেখায় রয়েছে তেমন কয়েকটি কারণ।

১. ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিসের কারণে দেহে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। আর এ পানিশূন্যতার কারণে সব সময় পিপাসার লাগতে পারে। মূলত রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে বাড়তি গ্লুকোজ বের করার জন্য দেহ কিডনিকে চাপ দেয়। আর এর কারণেই বাড়তি প্রস্রাব ও বাড়তি পিপাসার সমস্যা দেখা দেয়।
২. ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস
এটি ডায়াবেটিস না হলেও ডায়াবেটিসের কিছু লক্ষণ দেখা যায়। এসব লক্ষণের মধ্যে রয়েছে পানিশূন্যতা ও ঘন ঘন প্রস্রাবের তাগিদ অনুভূত হওয়া। এটি দেহের হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে দেখা যায়। এতে দেহ থেকে বাড়তি প্রস্রাব হওয়ার কারণে পানির পিপাসা পায়।
৩. মাসিক
নারীদের মাসিকের সময় বাড়তি পিপাসা পেতে পারে। এটি দেহ থেকে জলীয় পদার্থ কমে যাওয়ার কারণে হওয়া সম্ভব। কয়েক দিনের মধ্যেই এ বাড়তি পিপাসা কেটে যায় এবং একে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলেই মনে করেন চিকিৎসকরা।
৪. শুষ্ক মুখ
শারীরিক কোনো জটিলতার কারণে মুখে শুষ্কতা দেখা দিতে পারে, যে কারণে বাড়তি পিপাসা লাগতে পারে। এ সময় মুখ শুষ্ক হওয়ার কারণে ভুলক্রমে সে শুষ্কতাকে অনেকেই পিপাসা বলে মনে করেন। মুখের লালার ঘাটতি থেকে এমনটা হতে পারে। বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা ইত্যাদি কারণেও মুখে লালার ঘাটতি হতে পারে, যা আদতে পিপাসার অনুভূতি নিয়ে আসে।
৫. রক্তশূন্যতা
কোনো কারণে হঠাৎ দেহের রক্ত কমে গেলে দেহে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। আর রক্তশূন্যতা দেখা দিলে ঘন ঘন পিপাসা পেতে পারে। থাইরয়েড সমস্যা, মারাত্মক আলসার ইত্যাদি কারণে দেহে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
৬. রক্তচাপ কমে যাওয়া
রক্তচাপ কমে গেলে দেহ স্বাভাবিকভাবেই ঘাটতি পূরণ করতে বাড়তি পানি দেহে গ্রহণ করে স্বাভাবিক চাপ তৈরি করতে চায়। এ কারণেই বাড়তি পিপাসা পায়। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিগুলো সঠিকভাবে কাজ করে না। এতে রক্তচাপ কমে গিয়ে পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলতে পারে। এতে অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি বাড়তি পিপাসাও পেতে পারে। আর এ সমস্যার সমাধানে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই।
৭. খাদ্যাভাস
কিছু খাবার আপনার পিপাসা বাড়িয়ে দিতে পারে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে শতমূলী, বিট, বিভিন্ন ধরনের লেবু, আদা ইত্যাদি। তবে এসব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি হওয়ায় খাবার বাদ দিয়ে নয় বরং বেশি করে পানি পান করে এ বাড়তি পিপাসা দূর করতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
–ফক্স নিউজ অবলম্বনে ওমর শরীফ পল্লব

 

Share Button

About the Author

-