Press "Enter" to skip to content

ফাদার যাজকসহ ১২ জনকে হত্যার হুমকি

ইতালীয় নাগরিক পিয়েরো পারোলারিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার পর আবারও দিনাজপুর ও রংপুরে চার্চের ফাদারসহ ১২ খ্রিস্টান যাজককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে বীরগঞ্জে রোমান ক্যাথলিক চার্চের যাজক কার্লুস বাবু টপ্প্যকে মোবাইল ফোনের খুদে বার্তায় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। হুমকিদাতা নিজেকে আইএস পরিচয় দিয়েছে। খুদে বার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁকে হত্যা করা হবে।

এদিকে রংপুরের রাধাবল্লভ এলাকার ব্যাপ্টিস্ট চার্চ রংপুরের পালক প্রধান ফাদার রেভারেন্ড বার্নাবাসসহ কর্মরত ১১ পাদ্রিকে হত্যার হুমকি দিয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিটি গতকাল বৃহস্পতিবার ডাকযোগে ফাদার বার্নাবাসের কাছে এসে পৌঁছেছে। চিঠিটির খামের ওপর প্রেরকের নাম লেখা হয়েছে ‘অতুল রায়, উত্তরপাড়া, দিনাজপুর’। তবে চিঠির ভেতরে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। ওই চিঠিতে লেখা রয়েছে-‘এবার আমাদের পরিকল্পনা, বাংলাদেশে যারা খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করে তাদের সকলকে এক এক করে হত্যা করা হবে। আমাদের দেশ শুধু মুসলিম আইন দ্বারা পরিচালিত হবে। বাংলাদেশে মুসলমান আছে কি না সেটা সরকার টের পাবে।’

যাঁদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্য পীরগাছা ও মিঠাপুকুরের বাইবেল চার্চ অব গড, যিহোবা শালোম এজি চার্চ, টালিথা কুমি চার্চ, তনকা ব্যাপ্টিস্ট চার্চ, দাউদিপুকুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ, ধাপ উদয়পুর ক্যাথলিক চার্চ, হাসিয়া টালিধা কুমি চার্চ, কইলোচিয়া বাইবেল চার্চ ও সাধু ফিলিপ মেরি ক্যাথলিক চার্চে কমরত।

এ বিষয়ে প্রধান ধর্মযাজক বার্নাবাস বলেন, ‘কারা কেন আমাদের এভাবে হুমকি দিয়ে চিঠি দিয়েছে তা বুঝতে পারছি না। ঠিঠি পাওয়ার পর থেকে আমরা আতঙ্কে আছি। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় ফোন করে জানানো হয়েছে।’

এদিকে হুমকি পাওয়ার পর দিনাজপুর বীরগঞ্জের চার্চের যাজক কার্লুস বাবু টপ্প্য কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি বীরগঞ্জের নিজপাড়া ইউনিয়নের চকবানারসী গ্রামের ক্যাথলিক চার্চে প্রায় দেড় মাস ধরে কর্মরত। গির্জা ও ধর্মীয় প্রার্থনা সভা পরিচালনা ছাড়া অন্য কোনো দায়িত্ব তিনি পালন করেন না। বুধবার তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। সন্ধ্যায় চালু করার সঙ্গে সঙ্গে আইএস নামে তিনটি এসএমএস আসে। বাংলা অক্ষরে ওই এসএমএসে লেখা হয়েছে, ‘ফাদার কার্লুস, আইএসের পক্ষ থেকে ছালাম নিবেন। দলের নির্দেশে আপনাকে ২০শে ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যা করা হবে। নিজপাড়ায় থাকেন, কি দিনাজপুরে। যা খুশি খেয়ে নিন।’ পরে বিষয়টি বিশপ সিবাসটিয়ানকে অবহিত করা হলে ডিআইজি রাতেই ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছেন। রাত ১০টার দিকে বীরগঞ্জ থানার ওসি মিশন থেকে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সর্বশেষ চতুর্থ এসএমএস আসে। তাতে বলা হয়, ‘আমরা কোন আইএস নয়, এমনি মজা করছিলাম। দুঃখিত ক্ষমা করবেন।’

এ বিষয়ে বীরগঞ্জ থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, হুমকির খবর পেয়ে তিনি ওই চার্চে গিয়ে ফাদারের সঙ্গে দেখা করেছেন। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি তাঁকেসহ চার্চের সবাইকে নির্ভয়ে থাকতে বলেছেন।

বীরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। বার্তা প্রেরক চিহ্নিত করা যায়নি। পুলিশ সুপার রুহুল আমিন জানান, বার্তাটি শুধু মজা করার জন্যই, নাকি প্রকৃতপক্ষে দুর্বৃত্তদের কাজ তা খুঁজে বের করা হবে।

Share Button