সিলেটে ফুটানো হচ্ছে উচ্চশব্দের পটকা : আতংকে জনজীবন

ডেইলি খবর, সিলেট : সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসব দিপাবলী ও শ্যামাপূজাকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীসহ আশপাশে এলাকায় ফুটানো হচ্ছে উচ্চশব্দের পটকা। এতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে জনজীবন। বিরাজ করছে আতংক। এত উচ্চ শব্দের পটকা ফুটানোর সুযোগে বড় ধরেন অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। গত কয়েকদিন যাবৎ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান দিপাবলী ও শ্যামাপূজাকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীসহ আশপাশের এলাকায় একের পর এক পটকা ফুটানো হচ্ছে। উচ্চশব্দের এসব পটকার বিকট শব্দে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এসব পটকার বিকট শব্দে অসহনীয় সময় পার করছেন। ধর্মীয় সংস্কৃতিতে এর কোন বিধান না থাকার পরও তরুণ ও যুবকরা পটকা ফুটিয়ে উৎসবে আনন্দের নামে পরিবেশ দূষণ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন নগরীর বাসিন্দারা। একটি বিশেষ মহল জনজীবনে অশান্তি ঘটানোর লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে এমনটি করছে বলে মনে করছেন অনেকে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সাধারণত বাজারে যেসব পটকা পাওয়া যায় সেগুলোর পাশাপাশি ফুটানো হচ্ছে বিশেষ উপাদান দিয়ে তৈরি উচ্চশব্দ সম্পন্ন পটকা। এসব পটকা সিলেটের সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নিয়ে আসা হয় বলে জানা গেছে। আর এসব পাটকা ফুটানোর কারণে নগরজুড়ে আতংক বিরাজ করছে। বাসাবাড়িতে দরজা-জানালা বন্ধ করে মানুষজন বসে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আতংকে আছেন অভিভাবকরা। কারণ এসব পটকা ফুটার সাথে সাথে শিশুরা ভয় পেয়ে কেঁদে উঠছে। এছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত লোকদের জন্যও এটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে অফিস কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল, রেস্তোরায় ৪০ থেকে ৬০ ডেসিবেল পর্যন্ত এবং শহর এলাকায় ৪৫ ডেসিবেল শব্দ মাত্রা সহনীয়। ৬০ ডেসিবেল মাত্রার বেশি শব্দ হলে সেই এলাকা দূষিত বলে চিহ্নিত হবে। শোবার ঘরে ২৫ ডেসিবেল, ড্রয়িং অথবা ডাইনিং রুমে ৪০ ডেসিবেল, ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল শ্রেনী কক্ষে, লাইব্রেরীতে ৩৫ থেকে ৪০ ডেসিবেল, হাসপাতালে ২০ থেকে ৪০ ডেসিবেল শব্দমাত্রা সহনীয়। পরিবেশ অধিদপ্তর এর মতে শান্তিপূর্ন এলাকায় বা নিরব এলাকায় শব্দের মাত্রা দিনে ৪৫ এবং রাতে ৩৫ ডেসিবেল। আবাসিক এলাকায় দিনে ৫০ এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল, বানিজ্যিক এলাকায় দিনে ৬০ ও রাতে ৫০ ডেসিবেল এবং কলকারখানায় দিনে ৭৫ ও রাতে ৭০ ডেসিবেল শব্দমাত্রা সহনীয়। শব্দের তীব্রতা এর চেয়ে বেশী হলে শব্দ আর শব্দ থাকে না। তা দূষিত শব্দে পরিনত হয়। সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দের তীব্রতায় আমরা সাময়িকভাবে বধির ও ১০০ ডেসিবেল শব্দের তীব্রতায় আমরা বধির হয়ে যেতে পারি। এমন সমীকরণ চিকিৎসা বিজ্ঞানে থাকলেও এসব তোয়াক্কা না করে অসহনীয় শব্দদূষণ ঘটিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ট করে তোলা হচ্ছে। যা কোন ধর্মের বিধানে নেই বলে জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। উচ্চ শব্দের পটকা ফুটানোর ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সনাতন ধর্মালম্বী বলেন- দিপাবলীতে এমন উচ্চ শব্দের পটকা ফুটানোর মধ্যেই ঘটতে পারে বড় ধরনের অপরাধ। আশপাশে যে পরিমাণে পটকা ফুটানো হচ্ছে যদি এর মধ্যে কেউ কাউকে গুলিও করে সেটাও কেউ বুঝতে পারবে না। মনে করে নিবে হয়তো পটকা ফুটানো হয়েছে।

Share Button

About the Author

-